সুনামগঞ্জ : হাওরের টানে মেঘালয়ঘেরা দেশের অন্যতম সুন্দর জেলা

0 ৩২

সুনামগঞ্জ আর হাওর যেন একে অন্যের পরিপূরক। সুনামগঞ্জের কথা শুনলেই মাথায় ভাসে বিশাল এলাকাজুড়ে শুধু পানি আর পানি, মাঝে মাঝে দুয়েকটা গাছ। কিন্তু হাওর ছাড়াও সুনামগঞ্জে ঘুরে দেখার মত আছে আরো অনেক জায়গা। টাঙ্গুয়ার হাওর বর্তমানে ভ্রমণপ্রিয় জেলাটি মানুষদের পছন্দের তালিকার শীর্ষস্থানীয় স্থান। যোগাযোগ সুবিধা, নিরাপত্তা, থাকার সু-ব্যবস্থার কারণে হাওরের পর্যটক দিন দিন জ্যামিতিক হারে বেড়েই চলছে। প্রায় ১০০ কিলোমিটার বিস্তৃত এই হাওরের মাঝামাঝি গেলে মনে হয় অথৈ সমুদ্র। কোনো কিনারা খুঁজে পাওয়া যায় না। দূর সীমান্তে আকাশ মিশে যায় পানির সাথে। হাওড়ে যেতে যেতে একসময় দেখা যায় দূরে ভারতের মেঘালয়ের পাহাড়। একসময় সেগুলোর খুব কাছে চলে যাওয়া যায়। হাওড়ে প্রচুর প্রাণীর সমাহার। নানারকম মাছ, ব্যাঙ, সরীসৃপের অভাব নেই। হাওরের স্বচ্ছ পানি দিয়ে একদম তলদেশের মাটিও দেখা যায়। বর্ষাকালে হাওর থাকে পূর্ণ যৌবনে। সেসময় হাওড়ে ঘোরার জন্য খুবই উত্তম।

সুবিস্তৃত জলরাশি, টাংগুয়ার হাওর। ছবি : ট্যুর টুডে বিডি

টাঙ্গুয়ার হাওরের তাহিরপুর ঘাট থেকে যাত্রা শুরু করে টেকেরঘাট নামলে দেখবেন প্রকৃতির অপার রুপ। প্রকৃতি যেন নিজেকে মেলে দিয়েছে এখানে। ঘাটে নেমে কিছুদূর গেলেই দেখা মিলবে শহীদ সিরাজ লেক বা নিলাদ্রী লেকের। একদম টলটলে পানি লেকের। দেখলেই নামতে মন চায়। লেকের গা ঘেঁষে ঐপারে দাঁড়িয়ে আছে মেঘালয়ের বিশাল পাহাড়সমূহ। লেকের সামনের টিলায় বসে ঘন্টার পর ঘন্টা কাটিয়ে দেয়া যায়।

বাংলার কাশ্মীর নামে পরিচিত সিরাজ লেক বা নিলাদ্রী লেক। ছবি : ভ্রমনকারী

লেক থেকে বেশ কিছুদূরে যাদুকাটা নদী। নদীর এক পাড়ে বারিক্কা টিলা আরেকপাড়ে খাসিয়া পাহাড়। মেঘালয়ের খাসিয়া পাহাড় থেকেই এই নদীর উৎপত্তি। বারিক্কা টিলার উঠে এই নদীর আসল সৌন্দর্য অবলোকন করা সম্ভব। পাহাড়, নদী আর সবুজের সমারোহ আপনাকে মুগ্ধ করবে। বারিক্কা টিলায় দুটি ছোট ঝরনা রয়েছে, যদিও বর্ষাকাল ছাড়া সেখানে পানি তেমন থাকে না। চাইলে ক্যাম্পিং করে থাকতে পারেন এখানে।

ছবির মতো সুন্দর শিমুল বাগান, সুনামগঞ্জ। ছবি : আদার ব্যাপারী

নদীর আরেকপাশে শিমুল বাগান। ১০০ বিঘারও বেশি জমি নিয়ে এই শিমুল বাগান অবস্থিত। বসন্তকালে এই শিমুল বাগানের দিকে তাকালে মনে হয় আগুন লেগেছে। বিশাল বাগান জুড়ে ৩ হাজার গাছে একসাথে ফুল ফুটে থাকে। বছরের অন্যসময় গাছে ফুল না থাকলেও সম্পূর্ন বাগান জুড়ে এক নিস্তব্দতা কাজ করে যা মন ভালো করে দেয়। এগুলো ঘুরা শেষ হলে সীমান্তে অবস্থিত লালঘাট ঝরনা দেখে ফেলতে পারেন। ভারতের মেঘালয় থেকে এই ঝরনার পানি নেমে আসছে। ঝরনার ঐপারে দেখা যায় ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীদের ঘাঁটি। সুবিধার ব্যাপার হলো এই সম্পূর্ণ এলাকা আপনি একবারে একটা মোটর সাইকেল ভাড়া করেই ঘুরে দেখতে পারবেন। বিকাল বেলা হাওরের মাঝে ওয়াচ টাওয়ারে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় দেখে, রাতে হাওরের মাঝে ট্রলারে অবস্থান করে বিশাল জলরাশির মৃদুমন্দ দুলুনি আর প্রাণ জুড়ানো বাতাস আপনাকে নিয়ে যাবে এক অন্য দুনিয়ায়।

লালঘাট ঝরনা। ছবি : ভ্রমণ গাইড

হাওর বাদে শহরে হাছন রাজার জাদুঘর, দৃষ্টিনন্দন পাগলা বড় জামে মসজিদ ঘুরে দেখতে পারেন। হাটে সময় থাকে অবশ্যই ঘুরে আসবেন সুনামগঞ্জ বর্ডার হাটে। সপ্তাহে প্রতি মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত এই হাট চলে। কোথাও বেড়াতে গেলে অবশ্যই ময়লা-আবর্জনা ফেলে নোংরা করবেন না। আমাদের দেশ আমাদেরই পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে নাস।