সিলেট জাফলং এর সৌন্দর্য

0 ৭০

জাফলংকে প্রকৃতির কন্যা বলা হয়। সিলেট শহরের যতগুলো দর্শনীয় স্থান রয়েছে তার ভিতরে সবচেয়ে পছন্দের স্থান হচ্ছে জাফলং। এখানে কারো সৌন্দর্যের টানে পর্যটকরা প্রতিবছর কয়েকবার করেও ঘুরতে আসে। সিলেট শহরের গোয়াইনঘাট উপজেলায় এ প্রকৃতি কন্যা বিস্তৃত। একেক ঋতুতে এর সৌন্দর্য একেক ভাবে প্রকাশ পায়। কিছু পর্যটকরা বলেন যে তারা ভিন্ন ঋতুতে ভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য এক বছরে দুই থেকে তিনবার ঘুরতে আসেন।

দর্শনীয় স্থান

জাফলং এর বাংলাদেশের সীমান্তে দাঁড়ালে ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থিত পাহাড় সমূহের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। এমনকি তাদের কিছু কাজকর্ম দেখার সুযোগ হয়। পাহাড় থেকে বয়নামা ঝর্ণাগুলো পর্যটকদের জন্য অন্যতম আকর্ষণ। যা মনকে প্রশান্তি দেয়। ভারতের ডাউকি বন্দর একটি ঝুলন্ত সেতু রয়েছে। এ সেতুর সৌন্দর্য এখান থেকে অনেক ভালোভাবে উপভোগ করা যায়। এছাড়া এর পাশাপাশি রয়েছে সর্পিলাকার দিয়ে প্রবাহিত ডাউকি নদী। নদীর সৌন্দর্য পর্যটকদেরকে প্রবলভাবে টেনে নিয়ে যায়। এ নদীর পানি অনেক স্বচ্ছ। আর এই স্বচ্ছ পানি হচ্ছে জাফলং এর অন্যতম সৌন্দর্যের আকর্ষণ। বৈশাখ মাসে এর সৌন্দর্য আরো বৃদ্ধি পায়। কেননা পহেলা বৈশাখে এখানে মেলা অনুষ্ঠিত হয়। আর এই বৈশাখী মেলাকে ঘিরে চারদিকে উৎসব মুখর হয়ে ওঠে। চারদিক নতুন সাজে সেজে উঠে। বর্ষা ও শীত কালে আলাদা আলাদা সৌন্দর্য ফুটে উঠে। বর্ষাকালে বৃষ্টি সজ্জিত গাছগাছালি এবং খরস্রোতা নদী এর সৌন্দর্য এত আকর্ষণীয় যা চোখ সরানো দুষ্কর। এছাড়া পাহাড়ের উপরে মেঘের দৃশ্য মন কেমন করে ফেলে।

জাফলং এর ইতিহাস

ইতিহাসবিদদের মতে জাফলং ছিল খাসিয়া রাজার অধীনস্থ একটি নির্জন বনভূমি । তবে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হওয়ার পরে এটি খাসিয়া রাজার অবসান ঘটে এবং এই বিস্তীর্ণ এলাকা প্রতি থাকে বেশ কয়েক বছর ধরে। তৎকালীন সময়ে বেশকিছু পাথর ব্যবসায়ী পাথর খোঁজার জন্য বিভিন্ন জায়গার সন্ধান করেন। তখন কিছু ব্যবসায়ী নৌপথে স্থানে আসেন। এখানে পাথরের সন্ধান পেয়ে তারান ব্যবসার প্রসার শুরু করেন। আর তাদের সাথে সাথে আরো ব্যবসায়ীরা এখানে আসতে থাকেন। তারপর ব্যবসায়ীরা এখানে অল্প অল্প করে বসবাস করতে থাকেন এবং বর্তমান সময়ে এখানে জনবসতি তৈরি হয়ে গেছে।

জাফলংয়ের বিপর্যয় পরিবেশ

জাফলং পাথর শিল্পের জন্য বিখ্যাত। কিন্তু এ পাথর শিল্পের অপব্যবহার এর ফলে এর বাতাস দিনদিন অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বিভিন্ন মেশিনারিজ যন্ত্রাংশ ব্যবহারের ফলে শব্দ দূষিত হচ্ছে এবং আশেপাশের এলাকায় ছড়িয়ে যাচ্ছে। যার ফলে পর্যটকদের জন্য একটু বিপর্যয়। তবে এ বিষয়ে সরকার নজর দিবে, তাই বলে যাচ্ছে পর্যটকরা।

মুক্তিযুদ্ধের সময় জাফলং

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় জাফলংয়ে সীমান্তের ওপারে একটি ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছিল। সেখানে এক রাজাকার বাহিনীর সাথে দুই দফা যুদ্ধ হওয়ার পর পাকিস্তানি পাক সেনা নিহত হন। তাদের নিহত সংখ্যা ছিল পাঁচ জন। তারপর তারা সেখান থেকে পালিয়ে চলে যায়। আর আমাদের দুজন মুক্তিযোদ্ধা আহত হন। জাফলং এর পাশে যে সারি নদী রয়েছে সেখানেও বড় আকারের একটি যুদ্ধ হয়। আরে এমন করেই জাফলং হয় শত্রু মুক্ত এবং জয়লাভ করে স্বাধীনতা। মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণ করার জন্য তমা বিল বন্দরে একটি শুল্ক অফিস আছে। তারপাশেই তাদের গণ কবর দেওয়া হয়।

জীববৈচিত্র্য ও উদ্ভিদবৈচিত্র্য

জাফলংয়ে উদ্ভিদ প্রজাতির মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় হচ্ছে খাটো প্রজাতির পাম গাছ। এ প্রজাতির গাছ গুলো শুধুমাত্র জাফলং এর বেশি দেখা যায়। এছাড়া নারিকেল সুপারি গাছগুলোতে প্রচুর পরিমাণে বাদুর বসবাস করে। বৃক্ষ নিধন এবং মানুষের উৎপাতে এগুলো বাদুড় আস্তে আস্তে ধীরে ধীরে পাশের দেশ ভারতে চলে যাচ্ছে বেঁচে থাকার তাগিদে।

জাফলংয়ে ভ্রমণ করার সময় সিলেটের অন্যান্য অঞ্চলে ভ্রমণ করে আসতে পারেন। যেমন সিলেটের চা বাগান, বিছানাকান্দি ইত্যাদি। তবে আমরা ভ্রমণের সময় খেয়াল রাখব যাতে আমাদের দ্বারা প্রাকৃতিক পরিবেশের কোনো ক্ষতি না হয়। কারণ এগুলো আমাদের সম্পদ, আমাদের ঐতিহ্য।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে নাস।