বাংলাদেশের মজাদার সব স্ট্রিটফুড

0 ৬৬

স্ট্রিটফুড সবসময় মজাদার হয় এটা আমরা সবাই জানি। কমবেশী সবারে স্ট্রিটফুড এর প্রতি প্রচন্ডরকম আকর্ষণ রয়েছে। শুধু আমাদের দেশ নয় সারা বিশ্বে এর জনপ্রিয়তা রয়েছে। বিশেষ করে চীন, জাপান ভারত, পাকিস্তান, মালোশিয়া, ভুটান এবং থাইল্যান্ডে ব্যাপক হারে জনপ্রিয়তা। বর্তমান সময়ে এর জনপ্রিয়তা আরো বেড়ে চলেছে।

স্ট্রিটফুড হচ্ছে রাস্তার খাবার। অর্থাৎ যে খাবার রাস্তাঘাটে তৈরি হয় তাকে স্ট্রিটফুড বলে। এই খাবার জায়গা এবং দেশ অনুযায়ী ভিন্ন রকম হয়ে থাকে। যেমন বাংলাদেশে একরকম ভারতে অন্যরকম। এমন দেখা যায় বাংলাদেশের ঢাকাতে যেটা জনপ্রিয় বেশি কিন্তু চট্টগ্রামে অন্য খাবার বেশি জনপ্রিয়। বাংলাদেশ ২০১৯ সালে ফুড রেঞ্জার নামে এক ইউটিউবার বাংলাদেশ ভ্লগ করতে আসেন। ইউটিউবে ভিডিও ছাড়ার পরে কয়েক মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায় সেই ভিডিওটি। বিভিন্ন দেশে নানা ধরনের কায়দায় তাদের স্ট্রিটফুড গুলো নিয়ে থাকে। কিন্তু আমাদের দেশে এখন পর্যন্ত এরকম হচ্ছে না। আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে আমরা আটকে আছি। তবে খুব শীঘ্রই এসো বদলা থেকে আমরা বের হতে পারবো আশা করা যায়। এক গবেষণায় দেখা গেছে যে সারা পৃথিবী জুড়ে ২.১ মিলিয়ন লোক স্ট্রিটফুড খায়।

যেমন জাপানের সবচেয়ে চলমান জনপ্রিয় স্ট্রীট ফুড মাংসের গ্রিল এবং মাছ সবজি ভাজা। আবার গ্রিসের সবচেয়ে জনপ্রিয় হচ্ছে ছোট মাছ ভাজা। অস্ট্রেলিয়াতে জনপ্রিয় হচ্ছে সামুদ্রিক মাছ। আপনাদের সাথে আলোচনা করবে বাংলাদেশের মজাদার স্ট্রিটফুড গুলো নিয়ে।

আনারস মাখানো

গৃষ্ম কাল এর সবচেয়ে জনপ্রিয় হচ্ছে আনারস মাখানো। প্রচণ্ড গরমে এই আনারস খেয়ে অনেকেই প্রশান্ত করেন নিজেকে।

ছোলা মুড়ি

ছোলা মুড়ি হচ্ছে বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় স্ট্রিটফুড গুলোর মধ্যে একটি। সারাবছরই এর জনপ্রিয়তা সমান পর্যায়ে থাকে। এর সাথে বেগুনি ও অন্যান্য সবজি মিশ্রিত করে দেয়া হয়।

পানিপুরি

তেতুলের টক এ ভেজানো পানি পুরি যেন এক অমৃত বাংলা মেয়েদের কাছে। স্কুল-কলেজের সামনে বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে এর ভিড় সব সময় লেগেই থাকে।

শরবত

নানা ধরনের ফলের শরবত, যেমন- আম, লেবু, বেল, তরমুজ ইত্যাদি গরমকালে ছোট থেকে বয়স্ক পর্যন্ত সবার প্রিয়। কেননা গরমের সময়ে শরবত মন থেকে একদম ক্লান্তি দূর করে দেয়।

আইস গোলা

গরমকালে স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন ধরনের পাবলিক প্লেসে এসবের ভিড় জমে যায়। এটি অনেকটা চীন খাবার। এগুলো সাধারণত বরফের সাথে রং মিশিয়ে তৈরি করা হয়।

নুডুলস আর পাস্তা

স্টেট ফুড গুলোর মধ্যে এ দুটি খাবার সবচেয়ে জনপ্রিয়। যেখানে খাবারটি মানুষের প্রচন্ড ক্ষুধা মিটিয়ে দেয়। সর্বত্র এটি পাওয়া যায়। এটি অভ্যন্তরীণ খাবার হলেও ধীরে ধীরে স্ট্রীট ফুডে পরিণত হয়ে গেছে।

বিরিয়ানি

এটি অন্যতম জনপ্রিয় খাবার। মুরগি, খাসি কিংবা গরুর মাংসের বিরানি সর্বত্র সবার প্রিয়। এর চাহিদা কমার্স দিন দিন বেড়েই চলছে।

ঝাল মুড়ি

বাচ্চা থেকে স্কলারদের ঝাল মুড়ি খাবার অত্যন্ত নিয়মমাফিক হয়ে। স্ট্রীট ফুডে ঝাল মুড়ি না খেলে যেন তাদের একটি অতৃপ্তি কিছু থেকে যায়। অনেক আগে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিক্রি করা হতো। কিন্তু সময়ের পরবর্তীতে এটি পরিবর্তন হয়ে গেছে। এখন সড়কগুলোতে এটি বেশি দেখা যায়। সাধারণত মুড়ির সাথে বিভিন্ন ঝাল ও মসলাযুক্ত সামগ্রিক মাখিয়ে ঝাল মুড়ি তৈরি করা হয়।

তবে দুঃখের বিষয় হচ্ছে কিছু কিছু স্ট্রিটফুড পেয়েছে যা সময়ের সাথে সাথে হারিয়ে যাচ্ছে। আমাদের সেগুলো বিষয় অবশ্যই খেয়াল রাখতে। আমরা যতই আধুনিকতার ছোঁয়া পাই না কেন অবশ্যই আমাদের প্রাচীন ঐতিহ্য ধরে রাখতে হবে। গ্রামগুলোতে আগে রাস্তাঘাটে কিংবা হাটবাজারে অনেক রংবেরঙের খাবার পাওয়া যেত। কিন্তু বর্তমান সময়ে তা ধীরে ধীরে অনেক কমে গেছে। কারণ মানুষ তার পেশাগত পরিবর্তন করে ফেলছে।

স্টেট ফুড প্রেমী বলেছেন যে, তিনি আগে অনেক হাওয়াই মিঠাই খেতেন যখন তিনি ছিলেন। কিন্তু বর্তমান সময়ে এটি তিনি একেবারে দেখতে পান না। সেই জিনিসটি খুব মিস করেন।

তাই আমাদের সবসময় খেয়াল রাখতে হবে যাতে প্রাচীন ঐতিহ্য খাবার গুলো হারিয়ে না যায়। এগুলো টিকিয়ে রাখতে আমরা স্ট্রিটফুড মেলা আয়োজন করতে পারি।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে নাস।