ছুটিতে ঢাকার আশেপাশে ঘুরে আসুন

0 ৮৮

আমরা কাজে এতটা ব্যস্ত হয়ে পড়েছি যে নিজেদের স্বাভাবিক জীবনটা কেমন ছিল তা ভুলে যায় অনেক সময়। অনেকে আছে যে সপ্তাহে শুক্রবার ব্যতীত পরিবারকে সময় দিতে পারেন না। ফলে তাদের মধ্যে আন্তরিকতা কিছুটা কমে যেতে থাকে। তাছাড়া নিজের মধ্যেও একটি রোবটিক সৃষ্টি হয়। কারণ আমরা বিনোদন থেকে অনেকটা দূরে সরে যাই। তাছাড়া আমাদের মনে একঘেয়েমি চলে আসে। নিজেকে সুখি মনে হয় না অনেক সময়।

এ ব্যস্ত সময় সময় থেকে ছুটির দিন গুলোতে পরিবার কিংবা বন্ধুবান্ধব নিয়ে কোথাও ঘুরতে গেলে মনটাও স্বতঃস্ফূর্ত হয়ে যায়। এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, একজন দুশ্চিন্তায় ভগি মানুষ যখন তার পরিবার কিংবা বন্ধুবান্ধবের সাথে কোথাও ঘুরতে যায় এবং সেখানে মজা করে তখন তার দুশ্চিন্তার পরিমাণ অনেকটা কমে যায়। তাছাড়া তার মানসিক চাপটা অনেকটা দূরে সরে যায়। ব্রেন কিংবা মন দুটোই তখন ফ্রেশ থাকে। তাছাড়া মনের ভাবগুলো সহজেই অপরজনের কাছে তখন প্রকাশ করার একটি সুযোগ পাওয়া যায়। আর বন্ধু-বান্ধব কিংবা পরিবারের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা পাওয়া যায় যার ফলে মনটা আরো শক্ত হয়ে ওঠে।

বাইরের প্রাকৃতিক পরিবেশে মন ফ্রেশ করার একটি অন্যতম উপায়। একঘেয়েমি দ্রুত দূর হয়ে যায় কোন প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে কয়েক দিনের জন্য ঘুরে আসলে। তাই ছুটির সময় যেটুকু সময় পান করে আসুন আপনার আশেপাশের কোন জায়গা থেকে বন্ধুবান্ধব এবং পরিবার নিয়ে। দেখবেন নিজেকে অনেক স্বতস্ফূর্ত লাগছে ।

যারা ঢাকায় চাকরি অথবা অন্যান্য কাজে ব্যস্ত থাকেন তাদের জন্য ছুটির দিনে ঘুরে আসার জন্য কিছু জায়গা উল্লেখ করে দেয়া হলো। সময় থাকলে সেখান থেকে ঘুরে আসতে পারেন।

লালবাগ কেল্লা

লালবাগ কেল্লা ঢাকা দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে বুড়িগঙ্গা নদীর পাড়ে অবস্থিত। সম্রাট আওরঙ্গজেব লালবাগ কেল্লা কে নির্মাণ করার পরিকল্পনা করেন। কিন্তু তিনি মারা যাবার পর তার পুত্র যুবরাজ শাহজাদা আজম এই দুর্গটি ১৬৭৮ সালে নির্মাণ কাজ শুরু করেন। শায়েস্তা খানের আমলে তার কন্যা পরী বিবি মারা যাবার পর এই দুর্গটি বন্ধ করে দেওয়া হয় একেবারে। ও এলাকার নামের সাথে মিল রেখে এর নামকরণ করা হয় লালবাগ কেল্লা।

এখানে রয়েছে শায়েস্তা খানের বাসভবন ও দরবার হল। বর্তমানে এটি লালবাগ কেল্লা জাদুঘর হিসেবে বেশি পরিচিত। এখানে ঘুরতে আসলে বিভিন্ন ধরনের প্রাচীন ঐতিহ্য ও নির্মাণ গুলো দেখতে পারবেন।

আলাদিন পার্ক

চিত্তবিনোদনের জন্য ঢাকার ভিতরে অন্যতম জায়গা হচ্ছে আলাদিন। বিশেষ করে পারিবারিক বিনোদন কেন্দ্রে হিসেবে এটি সবার কাছে প্রিয়। এটি ঢাকা বিভাগের ধামরাই উপজেলার সিতি নামক অঞ্চলে অবস্থিত। এ পার্কটি প্রায় 40 বিঘা জমির উপর নির্মিত হয়েছে। এখানে রয়েছে বুল রাইড, স্পিড স্পিনিং কার, বাম্পার কার, সুপার সুইং, ম্যাজিক শো, বিডি রাইটস জন, ট্রয় ট্রেন প্যাডেল বোট সহ আরো মজার মজার রাইড।

এছাড়া এখানে রয়েছে ওয়াটার ওয়ার্ল্ড ওয়েব, স্লিপার স্লাইড সহ বাচ্চাদের জন্য তিনটি আলাদা পুল। নারী পুরুষের জন্য রয়েছে আলাদা আলাদা চেঞ্জিং রুম এবং লকার। এছাড়া বিভিন্ন সময় কনভেনশন হলে বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান হয় এবং পিকনিক স্পটে পিকনিক করা যায়।

গ্রীন ভিউ রিসোর্ট

গ্রীন ভিউ রিসোর্ট ঢাকার আব্দুল্লাহপুর এর অতি নিকটে অবস্থিত। সেখানে রয়েছে মিনি কনফারেন্স রুম এবং একটি বিলাসবহুল সুট। আরও রয়েছে মিনি চিড়িয়াখানা। সেখানে দেখতে পাবেন নানা ধরনের হরিণ, ময়ূর ইত্যাদি। খেলার জন্য রয়েছে খেলার মাঠ আর অন্যদিকে রয়েছে বিশাল পুকুর এবং সুইমিংপুল। এখানে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজনের ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে।

যমুনা ফিউচার পার্ক

দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্ববৃহৎ বহুতল শপিংমল হিসেবে পরিচিত আমাদের দেশের যমুনা ফিউচার পার্ক । এই ফিউচার পার্ক টি শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে কুড়িল ফ্লাইওভারের কাছে অবস্থিত। প্রবেশ পথেই দেখা যাবে স্কাইড্রপ, রোলার কষ্টার, ম্যাজিক উইন্ডমিল, পাইরেট শিপ ইত্যাদি রোমাঞ্চকর রাইড গুলো। সেখানে ঘুরে আসলেও আপনার মনটা সতেজ হয়ে উঠতে পারে।

রমনা পার্ক

প্রকৃতির সৌন্দর্যে নিজেকে মুগ্ধ করতে এবং মনকে শান্ত করতে চাইলে অবশ্যই চলে যেতে হবে রমনা পার্কে। সেখানে রয়েছে প্রাকৃতিক পরিবেশে নির্মম ছায়া। যা আপনার সারাদিনের সকল ক্লান্তি দূর করে প্রশান্তি দান করবে। রমনা পার্ক রাজধানী ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে নাস।