কিভাবে সিলেট বিছানাকান্দি যাবেন?

0 ৮৯

বিছানাকান্দি হচ্ছে মূলত একটি পাথর কোয়ারি। এই পাথর কোয়ারী টি সিলেট শহর থেকে বেশ খানিক দূরে গোয়াইনঘাট উপজেলায় অবস্থিত। প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য নিয়েই এই পাথর কোয়ারি অবস্থান করছে। এর চারপাশে জায়গা জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে নানা ধরনের পাথর। মনে হবে এর জন্য পাথরের বিছানা। অনেকের মনে হয় সারারাত না ঘুমিয়ে সৌন্দর্য উপভোগ করে মন থেকে ক্লান্ত দূর করা যাবে। সেখানে রয়েছে বেশ কিছু প্রাকৃতিক ঝর্ণা। যা মেঘালয় রাজ্যের পাহাড় থেকে নেমে এসেছে। সেই ঝর্ণার পানিতে পা রাখলে মনে হয় পৃথিবীর সকল প্রশান্তি এখানেই। কিন্তু গৃষ্ম কালে সকল সৌন্দর্য চোখে পড়ে না। তাই কিছু নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে এখানে ভ্রমণ করাই ভালো। বর্ষাকালের পানির ঢল নেমে যায় চারদিকে। সেই সৌন্দর্যের মায়ায় অনেকেই প্রতিবছর চলে যায় বিছানাকান্দি। আর এখানে রয়েছে একেবারে স্বচ্ছ পানি। শুধু পানির নিচে পাথর দেখা যায়না শরীরের লোম পর্যন্ত দেখা যায়। দীর্ঘ সময় জল পাথরের এই বিছানায় শুয়ে বসে বিভিন্ন ভাবে ছবি তুলতে তুলতে কখন যে সময় পার হয়ে যায় তা বুঝতে পারেন না পর্যটকরা। সৌন্দর্যের নেশায় পরে তারা ভুলে যায় কখন তাদের ফিরতে হবে। দৃষ্টি যে পর্যন্ত যায় শুধু পাথর আর পাহাড় দেখা যায়।

অনেকদূর থেকে মনে হয় যে মেঘের সাথে পাহাড়ের দল গুলো আকাশে ভেসে গেছে। যতই কাছে যাওয়া হয় তখন মনে হয় পাহাড় গুলো আকাশ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। আর মনে হয় যে পাহাড়ের সাথে ব্যাপকভাবে সাদা মেঘ গুলো আঠার মত আটকে আছে। পাহাড় পাথর, পানি আর মেঘ মিলেই হচ্ছে এই বিছানাকান্দি। সেখানে যাওয়ার পর সর্বপ্রথম যে অমূল্যর দৃষ্টি পাওয়া যায় তা হচ্ছে প্রশান্তি। এই প্রশান্তি টি আপনি সারাদিন এর অক্লান্ত নিমিষেই দূর করে দিবে । নাগরিক সভ্যতা কে হারতে হয় এই প্রকৃতির সৌন্দর্যের কাছে। তাই নিজেকে প্রশান্তি করে দিতে সিলেটের বিছানাকান্দির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এর কোনো জুড়ি নেই।

কিভাবে যাবেন?

ঢাকা থেকে বাসে সিলেটে যাওয়ার জন্য প্রথমে গাবতলী কিংবা সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে যেতে হবে। এখান থেকে বাসগুলো নির্দিষ্ট সময় পরপর সিলেটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

বাস সার্ভিস

  •  গ্রীন লাইন পরিবহন
  • সৌদিয়া এস আলম পরিবহন
  • এনা পরিবহন ( এসি বাস চলাচল করে )
  • শ্যামলী পরিবহন
  • হানিফ এন্টারপ্রাইজ
  • ইউনিক সার্ভিস

বাস ভেদে ভাড়া ভিন্ন রকম হয়ে থাকে। সাধারণত ভাড়া পাঁচশত টাকা থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। তবে এসি বাসের ভাড়া একটু সাধারণত বেশি হয়।

এছাড়া সিলেটে এয়ার রুটে চলাচল করা যায়। এজন্য বেশ কিছু এয়ারলাইন্স রয়েছে।

এয়ারলাইনস

  • Super Saver – ৩২০০ টাকা
  • Economy Saver – ৩৭০০ টাকা
  • Business Saver – ৫৯০০ টাকা
  • Business Flexible – ৬৯০০ টাকা।

সিলেট থেকে বিছানাকান্দি যাওয়া

সিলেট থেকে বিছানাকান্দি যেতে হলে সর্বপ্রথম সিলেট শহরের আম্বরখানা পয়েন্ট নামতে হবে। ওইখান থেকে বিমানবন্দর রাস্তায় সামনের দিকে সিএনজি স্টেশন রয়েছে। সিএনজি নিয়ে হাদারপার নামক জায়গায় নামলে ভালো হয়। হাদারপার বাজারটিতে বিছানাকান্দি যাওয়ার জন্য নৌকা পাওয়া যায়। সাধারণত নৌকা ভাড়া রিজার্ভ করলে ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা নেওয়া হয়। শুকনো মৌসুমে হেঁটেই চলে যাওয়া যায় বিছানাকান্দি। সেজন্য সময় লাগতে পারে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট।

কোথায় থাকবেন?

যারা সিলেটের বাইরে বসবাস করে তাদের জন্য একদিন সেখান থেকে ঘুরে আসা খুব কষ্টসাধ্য। এজন্য সেখানে একদিন থেকে আসাই ভালো। সেখানে বেশ কিছু নামকরা হোটেল রয়েছে। সেগুলো হোটেলে থাকতে পারবেন। গড়ে প্রতি রাতের জন্য ৫০০ টাকা থেকে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত রুম ভাড়া হয়ে থাকে। এ টাকাটা নির্ভর করে আপনার সুবিধা ভোগের উপরে। হোটেলগুলো সিলেটের উপশহরে ভিতরেই অবস্থিত।

হোটেলের নাম

  • হোটেল রোজভিউ – ০৮২১৭২১৪৩৯
  • হোটেল স্টার প্যাসিফিক – ০৮২১৭২৭৯৪৫
  • হোটেল হিলটাউন – ০৮২১৬০৭৭
  • হোটেল ফরচুন গার্ডেন – ০৮২১৭১৫৫৯০
  • হোটেল গার্ডেন ইন – ০৮২১৮১৪৫০৫
  • হোটেল উর্মি – ০৮১৭১৪৫৬৩
  • হোটেল মুন লাইট – ০৮১৭১৪৮৫০

খাবেন কোথায়?

তিনবেলা খাওয়ার জন্য সিলেট শহরের জিন্দাবাজারে বেশ ভাল মানের কিছু খাওয়ার হোটেল রয়েছে। এরমধ্যে পানসী, পালকি ও পাঁচ ভাই হোটেল বিখ্যাত। এই হোটেলগুলোর ভর্তা অনেক বিখ্যাত।

সাবধানতা

  • সব সময় মোবাইল ফোন এবং টাকাপয়সা সাবধানে রাখবেন।
  • অপরিচিতদের সাথে বেশি মেলামেশা না করা
  • কোন কিছু কেনা বা যাতায়াত খরচ দরদাম করে নিবেন।
  • স্থানীয়দের সাথে তর্ক বা বিবাদে জড়ানো যাবে না।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে নাস।