কিভাবে নীলগিরি ভ্রমণে যাবেন?

0 ৬৬

নীলগিরিকে বাংলাদেশের দার্জিলিং বলা হয়। দিগন্ত জুড়ে রয়েছে সবুজ পাহাড় এবং তার সাথে রয়েছে আকাশের মেঘের লুকোচুরি। এ সৌন্দর্য যে কাউকে সহজে বিমোহিত করে রাখে। যদি ভূমি থেকে আকাশে তোলার মতো ওরা মেঘগুলো ছোঁয়ার ইচ্ছা থাকে তাহলে অবশ্যই চলে যেতে হবে নীলগিরিতে। তাহলেই আপনার ইচ্ছা টি খুব সহজে পূরণ হয়ে যাবে। নীলগিরি পাহাড়ের সর্বোচ্চ চূড়ায় রয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত এবং নির্মিত আমাদের সবচেয়ে সুন্দর পর্যটন কেন্দ্র। যার নাম রাখা হয়েছে নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্র। নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্র বান্দরবান জেলায় অবস্থিত। বান্দরবান জেলা সদর হতে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে পাহাড় অবস্থিত। তারপর সেখান থেকে ২২০০ ফুট উঁচুতে এ কেন্দ্রটি অবস্থান করছে ।

এই নীলগিরি পাহাড়ের সর্বোচ্চ চূড়ায় উঠে চার দিকে তাকালে শুধু সারিসারি পাহাড় দেখা যায়। সারি সারি পাহাড়ের সৌন্দর্য যেন আছড়ে পড়ছে সবুজ গাছগাছালি এর উপরে। আর সেই সৌন্দর্য পর্যটকদেরকে সহজে বিমোহিত করে দেয়। যদি আপনার দৃষ্টিশক্তি প্রখর হয়ে থাকে এবং পরিষ্কার হয়ে থাকে তাহলে অনেক দূরে দেখতে পারবেন বগালেক, পাহাড়চূড়া কেওক্রাডং ( যা বাংলাদেশের মধ্যে পঞ্চম সর্বোচ্চ পাহাড় ) । এমনকি কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকত, চট্টগ্রাম বন্দর ও সাঙ্গু নদীর দেখতে পারবেন। তাছাড়া নীলগিরি আশেপাশে অনেক আদিবাসী বসবাস করে। সেখান থেকেও ঘুরে আসতে পারেন এবং তাদের জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারবেন। নিরাপত্তার বিষয়টি একেবারেই ভাবার দরকার নেই। কেননা এটি সেনাবাহিনী দ্বারা পরিচালিত হয় এখানে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। তাই পরিবার ও বন্ধু-বান্ধব নিয়ে যেকোন সময় ঘুরে আসতে পারেন অনায়াসেই এই বাংলার দার্জিলিং।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ

নীলগিরি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সারাবছরই দেখা যায়। একেক সময় একেক রকম ভাবে ফুটে ওঠে। সকালে মেঘের ভেলার খেলা দেখা যায় এবং সূর্য উদয়ের আলোর খেলা দেখতে আরো সুন্দর লাগে। বিকেলে সূর্যাস্তের দৃশ্য যা সবার মন কেড়ে নিয়ে যায়। এছাড়া জ্যোৎস্না রাতের মায়াময় চারপাশ আপনার মন প্রশান্ত করে দিবে। তবে বর্ষা-শরৎ এবং হেমন্তকালে সৌন্দর্য আরো বৃদ্ধি পায়। তাই এ সময়ে নীলগিরি ভ্রমণ করলে খুব ভালো হয়। এছাড়া শীতের কুয়াশা মোড়া চাদরে চারপাশ দেখতে আরও মনোরম। সে দৃশ্য দেখার মতোই। নীলগিরি যেকোনো সময় চলে যেতে পারেন। তবে বর্ষাকালে পাহাড় ধসের আশঙ্কা থাকে বলে সে সময় না যাওয়াটাই ভালো।

যেভাবে নীলগিরি যাবেন

ঢাকা থেকে নীলগিরি যাওয়ার জন্য প্রথমে বান্দরবান যেতে হবে। বান্দরবানে যাওয়ার জন্য ঢাকা থেকে বেশ কয়েকটি বাস সার্ভিস রয়েছে। বাস সার্ভিস গুলো সাধারণত গাবতলী ও মহাখালী থেকে ছেড়ে থাকে।

বাস সার্ভিস গুলো হচ্ছে

  • এস আলম
  • সৌদিয়া
  • সেন্টমার্টিন পরিবহন
  • ইউনিক
  • হানিফ
  • শ্যামলী
  • ডলফিন

এগুলোর বাস ভাড়া সাধারণত ৫০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। ঢাকা থেকে বান্দরবান পৌঁছাতে সাধারণত ৮ থেকে ১০ ঘন্টা সময় লাগে।

ট্রেন যাত্রা
আর যদি ট্রেনে ভ্রমণ করতে চান তাহলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী যেকোনো ট্রেনে করে বান্দরবান নেমে যেতে হবে। ট্রেনগুলো হচ্ছে সোনার বাংলা, সুবর্ণা এক্সপ্রেস, তূর্ণা নিশিতা, মহানগর গোধুলী। এগুলোর ভাড়া সাধারণত তিনশত পঞ্চাশ টাকা থেকে বারোশো টাকা পর্যন্ত হয়।

বান্দরবান থেকে নীলগিরি

বান্দরবান থেকে নীলগিরি যাওয়ার জন্য চান্দের গাড়ি, সিএনজি, মহেন্দ্র অথবা লোকাল বাসে করে যেতে পারেন। তবে দলগতভাবে গেলে এগুলো রিজার্ভ করে যাওয়াই ভালো। এজন্য এর ভাড়া সাধারণত ৩০০০ টাকা থেকে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত হয়। চান্দের গাড়িতে স্বাধীনতা ১২ থেকে ১৪ জন চলে যাওয়া যায়। বান্দরবান থেকে নীলগিরি যাওয়ার জন্য দুই থেকে তিন ঘন্টা লেগে থাকে।

কোথায় থাকবেন

নীলগিরিতে সেনাবাহিনী কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত রিসোর্টে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে প্রতি রুমের জন্য ভাড়া পরে ৮০০০ টাকা। তাছাড়া বাইরে থাকার জন্য বেশকিছু হোটেল, রিসোর্ট এবং কটেজ রয়েছে।

হোটেলগুলো হচ্ছে

  • হোটেল হিল ভিউ
  • হোটেল হিলটন
  • হোটেল প্লাজা
  • রিভারভিউ
  • পর্যটন মোটেল

খাবার ব্যবস্থা

সেখানে গিয়ে খাবার খেতে পারবেন। তবে এর জন্য আগে থেকে অর্ডার বুকিং দিতে হবে। জনপ্রতি খাবার সাধারণত ৩০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত হয়।

নীলগিরি ভ্রমণ এর পাশাপাশি এর আশেপাশের দর্শনীয় স্থান গুলো দেখে আসতে পারেন। যেমন চিম্বুক পাহাড়, শৈলপ্রপাত, নীলাচল, স্বর্ণমন্দির ইত্যাদি।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে নাস।