সৌন্দর্যে ভরপুর কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত

0 ৭৮

ভ্রমণ এর কথা উঠলেই প্রথম তিনি স্থানের ভেতরে চলে আসে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। আর মনে পড়ে যায় সেখানকার মনমুগ্ধকর জলরাশির সৌন্দর্যের কথা। মনে হয় তখনই চলে যাই সেখানে। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত হচ্ছে একটি জলরাশি সৌন্দর্যের সমাহার।

কক্সবাজারের নাম তোলা হলেই সমুদ্র সৈকতের কথা মনের ভেতর ঢুকে পড়বে। এ সমুদ্র সৈকত হচ্ছে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ সমুদ্র সৈকত আর বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র স্থান। এখানে রয়েছে সমুদ্রের উত্তাল মন মাতানো ঢেউ। শুধুই ঢেউ সমুদ্রের চলে না মানুষের মনের ভিতরেও আনন্দের ঢেউ চলতে থাকে। আর বিকেলে সূর্যাস্তের সৌন্দর্য মায়াজালে আটকে দেয় সব পর্যটকদের। প্রতিবছর বিভিন্ন দেশ থেকে হাজার হাজার পর্যটক এখানে ঘুরতে আসে এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে।

কক্সবাজারের সাধারণত শীতকালে ভ্রমণ করলে খুব বেশি মজা পাওয়া যায়। আপনি খেয়াল করে দেখবেন বেশিরভাগ পর্যটকরা শীতকাল সময়ে কক্সবাজারে ভ্রমণে আসে। তাছাড়া এটি এমন একটি জায়গা এখানে সব সময়ই যেকোনো জায়গায় ঘোরা যায়। এ জায়গাটিতে সময়ের সাথে সাথে প্রকৃতির সৌন্দর্য পাল্টায়, আর সেই সৌন্দর্যের প্রভাবটা উপরে এই সৈকত এর উপরে। যা আপনি একদিনে কয়েকটি রূপ দেখতে পারবেন এই সৈকতের। আপনি বর্ষাকালেও সমুদ্রের মডেল মিতালী ঢেউ এবং পূর্ণিমা রাতের মনমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে চাইলেও সে সময় যেতে পারেন। তবে শীতকাল ছাড়া অন্য সময় গেলে আপনি থাকা সুবিধাটা একটু বেশি পাবেন। কেননা শীতকালে অনেক পর্যটক এর ফলে হোটেলে থাকার ব্যবস্থা একটু কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।

কক্সবাজার ইতিহাস

নবম শতাব্দীর শুরু থেকে নিয়ে ১৬১৬ সাল পর্যন্ত অর্থাৎ মোগল অধিগ্রহণের আগ পর্যন্ত কক্সবাজার ছিল আরাকান রাজ্যের একটি বড় অংশ। যখন মোগল সম্রাট সুজা পাহাড়ি ওই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন তখন কক্সবাজারের সৌন্দর্য দেখে তিনি মুগ্ধ হয়ে পড়েন। এবং তাদের সেনাপতিদের আদেশ দেন সেখানে একটি ক্যাম্প স্থাপন করার জন্য। তারপর থেকে এ স্থানটি তার অধীনস্থ হয়। তারপরে এস্থান পর্তুগিজ এবং তারপর ব্রিটিশরা নিয়ন্ত্রণ করে।

কক্সবাজার নামকরণ

যখন এ স্থানটি ব্রিটিশদের হাতে নিয়ন্ত্রণ হয় তখন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির এক অফিসারের নাম ছিল হিরাম কক্স। তার নাম অনুসারে এর নাম করা হয় কক্সবাজার। এই হিরাম কক্স স্থানীয় রাখাইন এবং শরণার্থীদের মধ্যে পুরনো বিবাদ মীমাংসা করার জন্য চেষ্টা করে থাকেন। কিছুটা সফল হলেও পুরোপুরি সফল এর আগেই তিনি মারা যান। তাই তখনকার শরনার্থীরা তার ওপর অনেক খুশি ছিলেন। তাই তাকে স্মরণীয় করতে এর নাম দেয় কক্স সাহেবের বাজার নামে। তারপর তা পরিবর্তিত হয় কক্সবাজার নামকরণ করা হয়। ১৮৫৪ সালে কক্সবাজারে প্রথম থানা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৮৬৯ সালে পৌরসভা গঠিত করা হয়।

ভৌগলিক

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের মোট দৈর্ঘ্য হচ্ছে ১২০ কিলোমিটার। যা সম্পূর্ণ অখন্ড এক সাগর সৈকত। এর ভরা জোয়ার ৬৬০ ফুট এবং নিম্ন জোয়ার ১৩০০ ফুট প্রশস্ত।

গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট

কক্সবাজার বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ রয়েছে যেগুলো পর্যটকদের জন্য ভ্রমণের সুবিধা করে দিয়েছে।

১. কলাতলী পয়েন্ট
এই সমুদ্র সৈকতের মূল একটি অংশ হচ্ছে কলাতলী পয়েন্ট। এটি কক্সবাজার মূল শহরের ডলফিন মোড়ের দিকে অবস্থিত।

২. সুগন্ধা পয়েন্ট
কলাতলী পয়েন্ট হতে উত্তর দিকে কিছু দূরে সুগন্ধা পয়েন্ট অবস্থিত। সেখানে রয়েছে নানা রকম জনপ্রিয় বার্মিজ মার্কেট।

৩. লাবনী পয়েন্ট
স্থানের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং পরিচিত অংশ হচ্ছে এই লাবনী পয়েন্ট। বেশিরভাগ পর্যটকরাই এখানে সমাপ্ত হয় সাইকেলিং, জগিং, ও সাঁতার কাটার জন্য।

৪. ইনানী সৈকত
এই সৈকতটি কক্সবাজার জেলার উখিয়াতে অবস্থিত। সমুদ্র সৈকত হতে প্রায় ৩৮ কিলোমিটার দূরে এ স্থান।

৫. টেকনাফ সৈকত
টেকনাফে সৈকত টেকনাফ উপজেলায় অবস্থিত। স্থানটি কক্সবাজারের অন্যান্য অংশ থেকে একটু ভিন্ন। গাছ গাছালীতে ভরপুর এ জায়গাটুকু।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্যের কথা লিখে বা বলে বোঝানো সম্ভব যতক্ষণ না পর্যন্ত আপনি সেখানে না যাবেন। পর্যটকদের থেকে জানা যায় যে তারা শুধু একবার নয় স্থানে বছরে দুই থেকে তিনবার পর্যন্ত ভ্রমণ করে শুধু এই সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য। সুতরাং আপনিও একবার হলে ঘুরে আসবেন এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে নাস।